সামার সার্কিট (Summing Circuit)
পরিচিতি:
সামার সার্কিট বা অ্যাডার (Adder) একটি এনালগ সার্কিট, যা ইনপুটগুলোর ভোল্টেজ যোগ করে আউটপুটে একটি যোগফল প্রদর্শন করে। এটি সাধারণত অপারেশনাল অ্যামপ্লিফায়ার (Op-Amp) ব্যবহার করে তৈরি করা হয় এবং "সামিং অ্যাম্প্লিফায়ার" নামেও পরিচিত।
কাজের পদ্ধতি:
সামার সার্কিটে একাধিক ইনপুট ভোল্টেজ থাকে, এবং একটি বিশেষ ধরণের অপ-অ্যাম্প কনফিগারেশনের মাধ্যমে ইনপুটগুলোর ভোল্টেজগুলোর যোগফল আউটপুটে প্রদর্শিত হয়। এটি ভোল্টেজ ডিভাইডার নীতি ও অপ-অ্যাম্পের প্রতিক্রিয়া ব্যবহার করে ইনপুট ভোল্টেজগুলোকে যোগ করে।
উদাহরণ:
একটি সাধারণ ইনভার্টিং সামার সার্কিটে তিনটি ইনপুট \( V_1 \), \( V_2 \), এবং \( V_3 \) থাকলে আউটপুট ভোল্টেজ হবে:
\[
V_{out} = - (V_1 + V_2 + V_3)
\]
এখানে অপ-অ্যাম্পের ইনভার্টিং ইনপুটের সাথে একটি রেজিস্টরের মাধ্যমে ইনপুট ভোল্টেজগুলো যুক্ত করা হয় এবং আউটপুটে যোগফল প্রদর্শিত হয়।
ব্যবহার:
- অডিও মিক্সিং: অডিও সিগন্যালগুলোর যোগফল তৈরি করতে সামার সার্কিট ব্যবহার করা হয়, যেমন স্টেরিও অডিও মিক্সিং।
- ডিজিটাল থেকে এনালগ কনভার্টার (DAC): সামার সার্কিট বিভিন্ন ডিজিটাল সিগন্যালের সমন্বয়ে এনালগ আউটপুট তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়।
- সিগন্যাল প্রক্রিয়াকরণ: বিভিন্ন ইনপুট সিগন্যালের যোগফল তৈরি করতে এবং প্রক্রিয়া করতে সামার সার্কিট ব্যবহৃত হয়।
ডিফারেন্সিয়েটর সার্কিট (Differentiator Circuit)
পরিচিতি:
ডিফারেন্সিয়েটর সার্কিট এমন একটি এনালগ সার্কিট যা ইনপুট সিগন্যালের তীব্র পরিবর্তনের হারকে আউটপুটে প্রকাশ করে। এটি মূলত ইনপুট সিগন্যালের ডেরিভেটিভ বা পরিবর্তনের হার পরিমাপ করে। এই সার্কিটেও সাধারণত অপারেশনাল অ্যাম্প্লিফায়ার (Op-Amp) ব্যবহৃত হয়।
কাজের পদ্ধতি:
ডিফারেন্সিয়েটর সার্কিটে ইনপুট সিগন্যালের পরিবর্তনের হার আউটপুটে প্রদর্শিত হয়। ইনপুটে ক্যাপাসিটর এবং ফিডব্যাকে রেজিস্টর ব্যবহার করা হয়, যা ইনপুটের ডেরিভেটিভ হিসেবে আউটপুট প্রদান করে।
উদাহরণ:
একটি সাধারণ ডিফারেন্সিয়েটর সার্কিটে ইনপুট ভোল্টেজ \( V_{in} \) হলে আউটপুট ভোল্টেজ হবে:
\[
V_{out} = - R C \frac{dV_{in}}{dt}
\]
এখানে RR হলো রেজিস্ট্যান্স এবং CC হলো ক্যাপাসিট্যান্স। আউটপুটটি ইনপুটের সাথে সম্পর্কিত একটি ডেরিভেটিভ সিগন্যাল প্রদান করে।
ব্যবহার:
- এজ ডিটেকশন: ডিজিটাল সিগন্যালের পরিবর্তনের হার (এজ) নির্ণয়ে ডিফারেন্সিয়েটর সার্কিট ব্যবহার করা হয়।
- কম্পাঙ্ক বিশ্লেষণ: এটি ইনপুট সিগন্যালের ফ্রিকোয়েন্সি পরিবর্তন বিশ্লেষণ করতে ব্যবহৃত হয়।
- অ্যাক্সিলারেশন মাপা: গতি ও অবস্থানের পরিবর্তন বিশ্লেষণে ডিফারেন্সিয়েটর সার্কিট সহায়ক হয়, যেমন অ্যাক্সিলারেশন সেন্সর।
সারসংক্ষেপ
- সামার সার্কিট ইনপুট ভোল্টেজগুলোকে যোগ করে আউটপুট প্রদর্শন করে, এবং এটি অডিও মিক্সিং ও DAC-এর মতো অ্যাপ্লিকেশনগুলোতে ব্যবহৃত হয়।
- ডিফারেন্সিয়েটর সার্কিট ইনপুট সিগন্যালের পরিবর্তনের হার পরিমাপ করে, যা এজ ডিটেকশন, কম্পাঙ্ক বিশ্লেষণ এবং অ্যাক্সিলারেশন মাপার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এই দুটি সার্কিট ডিজিটাল এবং এনালগ ইলেকট্রনিক্সে বহুল ব্যবহৃত হয় এবং বিভিন্ন সিগন্যাল প্রক্রিয়াকরণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
Read more